F.M RADIO 29. 9 -Story

সময়ের সাথেপাল্লা দিয়ে ছুটে মানুষ। চোখ খুললে অন স্ক্রিন আর চোখ বন্ধ করলেও অফ স্ক্রীণে প্রতি মুহুর্তেই মগ্ন সবাই।দিনের শুরু যখনই হোক না কেন ঘুমাতেও যাই ইউটিউব চ্যানেল শুনতে শুনতে। কখনো আমি ঘুমের দেশে চলে গেলেও ডিভাইসে কিন্তু অনলাইন।
আমার ড্রাইভারও বা কম কী সে? ওই ব্যাটা যতক্ষণ রেডিওর সংগে থাকে ততক্ষণে ওর পরিবার ওকে পায় কি না সন্দেহ।

যখনই গাড়িতে উঠি তখনই ড্রাইভার রেডিও ছাড়ে। Fm রেডিও কত সেটা জানি না। একজন স্যার বলতে থাকেন ছাত্রদের কেন বিদেশ যাওয়া উচিত আর কেন যাওয়া উচিত না। আরো নানান কথা আর সবাই ওইটাই শুনতে থাকে। কয়েকজন ছাত্র সেখানে উপস্থিত থাকে। ছাত্রগুলোকে শিখিয়ে আনা হয় কি কি বলতে হবে।
একজন ছাত্র বলে
-স্যার আমি তো ওই দেশে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু এজেন্সি তো অনেক টাকা চাইল।
-কেন? এত টাকা লাগবে কেন? ওই দেশে যাওয়ার জন্য তো আল মাহমুদ ট্রাভেল এজেন্সি অনেক কম টাকা নেয়। কিন্তু ওরা কেন এত বেশি নেয়?
আবার কেউ একজন প্রশ্ন করে ওঠে।
-আমি কি একটা প্রশ্ন করব স্যার! আমি সাইপ্রাস যেতে চাই। কি হিসেবে গেলে ভালো হয় স্যার? যেতে কত টাকা লাগে?
-ওই দেশের কথা আমার জেনে বলতে হবে।
তখন আর একজন ছাত্র বলল,
-স্যার আমি বলবো? অনলাইনে অনেকেই আছে যারা এ ব্যাপারে জানে।
-হ্যাঁ বল বল!
তখন ওই ছেলেটা একটা নির্দিষ্ট টাকার অংক বলল।
স্যার বলল,
-এত টাকা তো লাগার কথা না। সাইপ্রাস তো বেশি দূরে নয়
ভৌগলিকভাবে এশিয়ার মধ্যে রাজনীতি আর অর্থনীতিতে ইউরোপ এ,তুরস্কের পাশেই। আমি এখনই ট্রাভেল এজেন্সি কে ফোন করে জিজ্ঞেস করে নিচ্ছি।

এ বলে একটা ট্রাভেল এজেন্সি কে ফোন করলো।
ট্রাভেল এজেন্সি ফোন ধরল। এপাশ থেকে বললো,
-আমি জহিরুল ইসলাম স্যার বলছি।
ওপাশ থেকে,”ও! ওয়ালাইকুম আসসালাম, ওয়ালাইকুম আসসালাম” বলে বলে ধন্য হয়ে গেল।

স্যার জিজ্ঞেস করলেন সাইপ্রাসে যদি যেতে চায় তাহলে কত টাকা লাগতে পারে?
ওরা এবার একটা টাকার অংক বলল।
স্যার তখন সবাইকে সেই অংক জানালেন। তারপর দেখা গেল এই অংক ওই অংকের তুলনায় অনেক কম।
পুরোটা সময় ব্যবসায়িক একটা ব্যাপার স্যাপার চলতে থাকে। পুরোটাই যেন বোকা বানানোর একটা মেশিন।
আর আমার ড্রাইভার এটা খুব শখের সাথে শুনতে থাকে। আমি আমার ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম,
-তোমার ছেলেরা কি কেউ বিদেশ যাবে?
-না
-তাহলে তুমি এটা শোনো কেন?
-ওনার কথা খুব ভালো লাগে। তবে আমার ভাতিজারে কইছি, বিদেশ গেলে এই স্যারের মাধ্যমে যেতে হবে।
কারণ স্যার খুব ভালো মানুষ।
স্যার বারবার তার ফোন নাম্বারটা বলে। স্যার সব সময় বলেন,”কোন প্রশ্ন থাকলে সরাসরি আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করতে পারবেন, আমার নাম্বার হচ্ছে ০১৭ ডট ডট ডট ডট ডট।”

আমি গাড়ি করে খুব বেশি দূরে একটা যাই না। মোল্লার দৌড় যেমন মসজিদ পর্যন্ত তেমন আমার দৌড়টা ঠিক ওয়ারী,শান্তিনগর,বেইলি রোড পর্যন্ত।

মাঝখানের তিন চার দিন ড্রাইভার অসুস্থ। বনানীতে একটা কাজ পড়লো। আমার নিজেকেই গাড়ি চালিয়ে যেতে হবে।
আমি গাড়ি নিয়ে বের হলাম। হঠাৎ মনে পড়ল ড্রাইভার যেন কি শোনে? ওহ্ fm রেডিও। ওর কাছে কি যে মধু এটা !
তাই আমিও গাড়িতে উঠেই এফএম রেডিও ছাড়লাম। আমি আসলে কখনো রেডিও শুনি না তাই আমি বুঝতে পারছিলাম না।

আঙ্গুলটা ঘুরাতে ঘুরাতে প্রথমেই আসলো 29.9 F M রেডিও।

আমি শ্রাবন্তী! আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আজকের পর্ব।

ভীষণ সুন্দর গলায়। তখন আমার মনে পড়লো এদেরকে RJ বলে। কি সুন্দর করে কথা বলছে মেয়েটা।
R J অর্থাৎ radio jockey

আজকের প্রোগ্রামে আমাদের অতিথি হয়েছেন যিনি- কেউ কি অনুমান করতে পারেন, কে?
এনি বডি গেস?
এনি বডি? এনি বডি?? এত সুন্দর ভঙ্গিতে এনি বডি এনি বডি বলতে লাগলেন মনটা চাচ্ছিল আমিও কোন একজনের নাম বলি। ফেসবুক লাইভে প্রোগ্রাম চলে যারা ফেসবুক লাইভে ছিল তারা আমি ফেসবুক লাইভে তার প্রোগ্রামটা কখনো খুঁজে পাইনি। যদিও পরবর্তীতে পেয়েছিলাম কিন্তু জানাতে চাচ্ছিলাম না কিছু শুধু দেখতাম।
আপনারা পারছেন না তো?
আপনারা কমেন্ট করে বলতে পারেন কে আজকের অতিথি।
কেউ বলে শাকিব খান, কেউ বলল পূর্ণিমা, কেউ বলল পপি, কেউ বলল শাবনূর, কেউ বললে অপু বিশ্বাস,কেউ বললো বুবলি।
R J বলছে আপনারা কেউ গেস করতে পারেননি আপনাদের জন্য রয়েছে বিশাল চমক!
এইবার সবাই লেখা শুরু করলো,
পরীমনি!
পরীমনি!
পরীমনি!

তবে রেডিও জকি চমকে দিয়ে বললেন, না! আপনারা কেউ অনুমান করতে পারেননি। আপনারা খালি একটা জগতেই ঘুরেন। আজকে যিনি আমাদের প্রোগ্রামে এসেছেন তিনি হচ্ছেন একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।

উনি হলেন একজন কম্পিউটার অপারেটর। ফ্রান্সের একটা কোম্পানির জন্য তিনি কাজ করেন। জানি আপনাদের সবার মন খুব খারাপ হলো। ভেবেছিলেন আমি কোন নায়ক নায়িকা গায়ক গায়িকা অথবা গ্ল্যামারাস ক্লোনাস উদ্যোক্তাকে নিয়ে তোমাদের সাথে কথা বলবো।

তবে আমি আগেই বলেছিলাম আজকের দিনের বিষয়টা হবে একটু ভিন্ন এবং চমকে দেওয়ার মতো। সবাই একটু হতাশ হলে মনে হলো কিন্তু আজকের গল্পটা অনুপ্রেরনার। আমি মনে করি আজকে লাইভে যারা আছো এবং রেডিওতে যারা শুনছো ফেসবুক লাইভে যারা দেখছো তারা সবাই ভীষণ এনজয় করবে।

ভীষণ মিষ্টি মধুর ভাষায় ছেলেটাকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন তিনি। উনি কিভাবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ার পরেও কম্পিউটার অপারেট করেন সেটা বললেন।
ছেলেটার নাম সাঈদ হাসান। এবার সে বলা শুরু করলো তার জীবনের গল্প। প্রতিবন্ধী হওয়ার পরও কিভাবে সে পড়ালেখা করলো, কিভাবে চাকরি ম্যানেজ করলো, এখন কীভাবে লাক্সারি লাইফ লিড করে সেসব আদ্যোপান্ত।

মানুষও মুগ্ধ হয়ে উনার ভাষা শুনতে লাগলো। শেষে উনি বললেন-সব সময় কি পরিমনিদের আসতে হবে? সব সময় কি শাকিব খান দের আসতে হবে? উনাদের কি অধিকার নেই?
যদি বিচার বিবেক দিয়ে একবার ভাবেন, তবে আপনার কি একবারও মনে হয় না যে- উনি শাকিব খান কিংবা পরীমনির চেয়ে অনেক বড় সেলিব্রেটি? কেন মনে হয় না? কেন মনে হয় না- এটা আমার আপনাদের কাছে প্রশ্ন।
যিনি শ্রেষ্ঠ উত্তরটি দিবেন তার জন্য রয়েছে স্পেশাল গিফট।

অনুষ্ঠান যথারীতি শেষ হয়ে গেল। অন্য একটা অনুষ্ঠান শুরু হল ওই চ্যানেলেই।
আমিও গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম। একটু পরেই আমি ভুলে গেলাম চ্যানেলটার নাম আর মেয়েটার নাম। হঠাৎ মনে পড়ল এফ এম 29.9 রেডিও।

১০-১৫ বছর আগে যখন কলকাতায় যেতাম, তখন ট্যাক্সিতে বেশ কয়েকবার রেডিও শুনেছি।
” F M RED MIRCHI” খুব সুন্দর করে ওই মেয়েটা কথা বলতো। কোথায় যেন ওই মেয়েটার সাথে এই মেয়েটার তাল মিল পেলাম। বাংলিশ টাইপ ভাষাও যেমন আছে তেমন ক্যালকশিয়ান ভাষাও আছে, মেয়েটার কথার টোন এর ভেতর।
কিন্তু হঠাৎ করে মনটা খারাপ হয়ে গেল। আমার ওনার নামটা মনে পড়ছে না। আবার ওনার গলার টোনটা এত সুন্দর ছিল যে আমার ভীষণ ভালো লেগে গেল।
আমি ওই রেডিও টুয়েন্টি নাইন পয়েন্ট নাইন এফএম এ আটকে থাকলাম।এক অদ্ভুত ঘোর লেগে গেল যেন মননে,মগজে।মনে হল সারাদিন শ্রাবন্তীর কথা শুনলেও বিরক্তি আসবেনা।শুধু আমার কেন এই কথা সবার জন্যই প্রযোজ্য। আচ্ছা রেডিও স্টেশনগুলো কি আরজেদের হাইলি পেমেন্ট করে?তাদের সম্মানী কি জনপ্রিয়তার সমানুপাতিক?

বনানীতে এসে কাজ সারলাম। কিন্তু মনটা পড়ে রইল ওই রেডিওতে।
ফেরার পথে গাড়িতে উঠে আবার রেডিও ছাড়লাম। অনেকে আসে রেডিও তে কিন্তু উনি তো আর আসে না। তখন আমার মনে হল উনি হয়তো নির্দিষ্ট একটা সময় আসেন। এটা হয়তো হতে পারে।
আমি খুব চেষ্টা করলাম এটা জানার যে উনি কখন আসেন। এখন তো বাজে ৩টা উনি কখন এসেছিলেন ১:০০ টায়? আমি ক্যালকুলেশন করে মিলাতে পারছিলাম না মনটা খারাপ হচ্ছিল।

হঠাৎ মনে হলো রেডিও শোনার সময় আমার বন্ধু আমার কাছে ফোন করেছিল। অর্থাৎ ওই সময়েরও ১০ মিনিট আগে সেই অনুষ্ঠান শুরু হয়। আমি সময়টা মিলিয়ে নিলাম।
তারমানে অনুষ্ঠান বারোটার সময় শুরু হয়। আমি শুধু এইটুকু মনে রাখলাম। এরপর বাসায় চলে আসলাম। তারপর বেমালুম সব ভুলে গেলাম ভিড় বাট্টা সিগন্যাল এর ঝামেলায় ।

কে শ্রাবন্তী? কিসের এফ এম 29.9 রেডিও, সব ভুলে গেলাম।

রাস্তার ভিড়বাট্টা ঠেলে বাসায় আসার পরে মনে- হলো গাড়ি মানুষ চালায় এই ভীড়ের ভেতর? ম্যাগাজিন এর কিছু কাজ ছিল, আরও অন্য কিছু কাজ। সব কাজ সেরে বাসায় এসে বাসায় এসেও শান্তি নাই নানান ঝামেলা।
পরদিন সকালে উঠলাম।। সকাল ৯ টা ৩০ মিনিট। উঠে মনে হল, গাড়ির রেডিও কি বাসায়ও থাকে নাকি?

মোবাইলেও রেডিও শোনা যায়? শোনা গেলে ব্যবস্থাটা কি? আমার এক বন্ধুকে ফোন করলাম। সে আমাকে বলল হ্যাঁ শোনা যায়। সে আমাকে বলে দিল কিভাবে মোবাইলে রেডিও শুনতে হয়। আমি সেই অপশনটাতে ক্লিক করতে পারলাম না ও যেটার কথা বলেছিল। খুব বিরক্ত লাগলো।
আসলে এ্যাপস নাই।

ধ্যাত তোর মোবাইল!
গাড়ির চাবি নিয়ে নিচে নেমে গেলাম গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চুপ করে বসে থাকলাম ১২ টার অপেক্ষায়।
তখন অনেকটা সময় বাকি

বিরক্ত হয়ে ওয়ারির রাস্তায় চক্কর মারা শুরু করলাম। আধাঘন্টা চক্র মারার পর সেই সুপরিচিত শব্দ আমার কানে আসলো।

ওয়েট ওয়েট ওয়েট ওয়েট ওয়েট
আপনাদের জন্য আজকের অনুষ্ঠানটা হতে যাচ্ছে একদমই ইউনিক। যা কেউ একদমই করেনি আমি আজকে তাই করবো।

আমি আবার ওনার কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শোনা শুরু করলাম।

আজকের অতিথি একজন বাউল শিল্পী। তিনি কবিতা আবৃত্তি করেন। নাম বেলাল।

এরকম বাউলের নাম আমি আগে কখনো শুনিনি। তবে আমার মনোযোগ তো বাউলে না আমার মনোযোগ শ্রাবন্তীতে।

শ্রাবন্তী বলল আপনার আবৃত্তি কিন্তু খুব সুন্দর হয়। আপনারা বাচনভঙ্গি এবং আবৃত্তি মিলে একপ্রকার নেশা ধরিয়ে দেয়। শ্রোতাদের থেকে জেনে নিচ্ছি আপনার আবৃতির বিষয়ে তাদের কোন ডিমান্ড আছে কিনা। আপনারা সবাই লাইভে কমেন্ট করতে পারেন। সবার কমেন্টই পড়া হবে।

একজন লিখলেন ওহে প্রভু নিরঞ্জন।

শ্রাবন্তী বাউল মহারাজ বেলাল কে সেটা পড়ে শোনাতে বললেন।
মহারাজ আবৃত্তি করলেন কিন্তু অন্যটা
আমি সে দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি না কিন্তু তার বডির ঝাকুনি গলার স্বরের আপডাউন্সের সাথে একইভাবে অনুভব করছি।

আবার প্রশ্ন করলেন,
আর কোন অনুরোধ?

আর একজন লিখলেন, ও হে প্রভু নিরঞ্জন।

শ্রাবন্তী এবার জিজ্ঞেস করলেন,
আর কোন পাবলিক ডিমান্ড আছে কি?
আরেকটা কমেন্ট ভেসে এলো,
“তুমি আছো তুমি নেই”

দুটো থেকে একটা আমি আপনাদেরকে শোনানোর ব্যবস্থা করব।

খুব সুন্দর একটা ঢং করে বলল সে। যতক্ষণ বাউল কবি বেলালের কণ্ঠ চলে ততক্ষণ আমি তাকিয়ে থাকি আকাশের দিকে, ডানে, বামে, নিচে। আর যখন শ্রাবন্তী বলা শুরু করে তখন আমি রেডিওর দিকে তাকিয়ে থাকি।
বাউল কবি বেলালের আবৃত্তি শুনে আমি চমকে গেলাম।

যদিও এটা অডিও বলে ওনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বাচনভঙ্গি সব কিছু ১০০% পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল না।
হঠাৎ একটা ঝাঁকি দিয়ে কবিতাটা শেষ করল বাউল কবি বেলাল।
-ওহে প্রভু নিরঞ্জন!
এটা বলে আবৃত্তি শেষ করল।
শেষ লাইনের শব্দগুলো শুনে আচমকা আমি গাড়ির ব্রেক কোষে ফেললাম কোন কারণ ছাড়াই, সেই সাথে আমার পিছনের সবগুলি রিক্সা মোটরসাইকেল গাড়ি ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে গেল।

বুঝলাম ও কেন মহারাজ
বাউল কবি বেলালকে শ্রাবন্তী প্রশ্ন করল
-এগুলো সব কি আপনার নিজের কবিতা?
– বেলাল – জি
আপনি পড়ালেখা কোন পর্যন্ত করেছেন?
-আমি ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়েছি।
-এত সুন্দর করে আপনি আবৃত্তি করলেন, আপনার কবিতায় গ্যালিলিও,নিউট্রন, সক্রেটিস আছে।
আপনার কবিতায় আছে দর্শন। এত কম পড়ালেখা করে এত কিছু আপনি জানলেন কি করে?
বাউল কবি বেলালের শটাং উত্তর,
-আমি কিছুই জানিনা। দয়াল আমার মগজে ঠুস করে ঢুকিয়ে দেন। আর মগজ আমাকে বলতে বাধ্য করে আমি তখনই বলি।

শ্রাবন্তী একটু ঘাবড়ে গেলেন। আমিও একটু অবাক হলাম। শ্রাবন্তী কখনো ঘাবড়ে যায় না কিন্তু আজকে ঘাবড়ে গেল কেন? Radio Jockey রা ভীষন স্মার্ট হয় কথাবার্তায় তাদের আটকে ফেলার শক্তি কারো নেই অন্তত আমাদের মত মানুষের।

কি প্রশ্ন করবে আর সে বুঝে পাচ্ছিল না।
তারপর একটু সময় নিয়েই জিজ্ঞেস করল,
আপনি নিউটনের চতুর্থ সূত্রের কথা বললেন এখন? নিউটনের তৃতীয় সূত্র আছে কিন্তু চতুর্থ সূত্রের কথা তো আমরা কখনো শুনিনি।
আপনারাতো অসাধারণ মানুষ!!
চতুর্থ সূত্র সম্পর্কে কোন আইডিয়া রাখেন না। কিন্তু আমার মাথায় প্রথম,, দ্বিতীয়, তৃতীয় কোন সূত্রই ঢোকে না। কিন্তু নিউটন যে চতুর্থ সূত্রের কথা ভেবেছিলেন কিন্তু বলেননি সেই সূত্র স্রষ্টা আমার মাথায় ঠুস করে ঢুকিয়ে দেন। তারপর আমি চতুর্থ সূত্রের কথাগুলো বলি।
-আপনি লিওনার্দো দা ভিঞ্চি সম্পর্কে কিভাবে জানলেন?
-উনি তো একজন বিশাল শিল্পী। ওনার সম্পর্কে আমি খুব একটা জানিনা কিন্তু যেটুকু জানি সেটুকু নিয়েই লিখি।
-তাহলে বলেন কি করে যদি তার সম্পর্কে খুব একটা কিছু না ই জানেন?
-আপনাকে তো একবারই বলেছি। আমি জানিনা আমি জানিনা আমি জানিনা। দয়াল আমার মস্তিষ্কে ঠুস করে ঢুকিয়ে দেয়। আর মস্তিষ্ক চাপ সৃষ্টি করে মুখে বলার জন্য। তখন আমি আবৃত্তি করি। মস্তিষ্কে যে মাত্র প্রেসার সৃষ্টি করে আমি সেই মাত্রই আবৃত্তি করি বা লিখি।
-আপনি বললেন গ্যালিলিও সর্বপ্রথম হেলিকপ্টার ডিজাইন করেছিল। যেগুলো বললেন সেগুলো আমরা সাধারণ মানুষ অনেকেই জানিনা। কিন্তু আপনি জানেন কি করে?

-আমি তো আপনাকে বলেছি আমি কিছুই জানিনা।
-এখানেই তো একটা দর্শন আছে নামকরা সেটা সক্রেটিসের। আপনি কি এটা বোঝাতে চাচ্ছেন যে আপনি কিছুই বুঝেন না, এটাই একজন জ্ঞানী মানুষের লক্ষণ।
-না আমি আসলেই কিছু জানি না। আমার গ্রাম হলো রহিমাবাদ যাত্রাপিরা ইউনিয়ন – বাগেরহাট।
আমার গ্রামের লোক তো আমার আপনার কথা শুনছে। আমি যদি B.A বা M.A কিছু করে থাকি তাহলে তারা তো বলবে যে আমি পড়ালেখা করেছি। তখন তো তারা ফেসবুকে কমেন্ট করবে যে আমি মিথ্যা কথা বলছি। আমি সত্যিই কিছু জানি না আমি ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়েছি।

-আপনার বউ এর মোবাইল নাম্বারটা কি দিবেন?
বেলাল তৎক্ষণাৎ শ্রাবন্তীকে ওনার বউ এর মোবাইল নম্বর টা দিল।
শ্রাবন্তীর চোখে মুখে ঘোরবিস্ময় আমি গলার টোনে অনুভব করলাম।
তৎক্ষণার ডায়াল করে ফেললো মহারাজের বউয়ের মোবাইল নাম্বারে
আর দর্শকরা শুনতে থাকলো কথোপকথন

-আপনি কি বাউল কবি বেলালের স্ত্রী
-জি – আপনি কে?
-আমি F M RADIO 29.9 থেকে শ্রাবন্তী বলছি আমি রেডিও জকি

– জি কিছু কইবেন?
– আমি বাউল কবি বেলাল সম্পর্কে কিছু জানতে চাচ্ছিলাম উত্তরগুলি যথাযথ দিবেন?
-দিমু সমস্যা কই?
-আপনাকে একটা প্রশ্ন করবো শুধু হা বা না বলবেন
-কন
– উনি কেন ক্লাস পর্যন্ত পড়েছেন?
– তিন ক্লাস বা চার ক্লাস পর্যন্ত পড়ছেন
দশকরা মনোযোগ দিয়ে শুনছিল তখন কারো মুখে একটু শব্দ টি নেই, সত্যিকার অর্থে আমি ছিলাম দর্শক আমি নিজেই হা হয়ে শুনছিলাম।
বাকি দর্শকদের অনুভূতিটা অনুভব করলাম।

বাউল কবি বেলালের আরো কিছু চমৎকার কথা দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হলো। আর আমি গাড়ি নিয়ে এদিক থেকে ওদিক ঘুরছি আর ঘুরছি , ঘুরছি আর ঘুরছি। ৩০ মিনিট গাড়ি চালালাম। শেষ হয়ে গেল অনুষ্ঠান। বুঝলাম আজকে আর শ্রাবন্তীর কণ্ঠ শোনা হবে না।
আমি জানার চেষ্টা করলাম অনুষ্ঠান কি প্রতিদিন হয় নাকি কোন গ্যাপ থাকে।
তারপর প্রত্যেকদিন আমার একটা নেশা হয়ে গেল, সাড়ে ১১ টা থেকে আমি গাড়িতে বসি এবং চক্কর কাটতে থাকি। কখনো হাটখোলা পর্যন্ত যাই। আর রেডিও শুনতে থাকি । এফএম ২৯.৯।

একটা ঘোরে পড়ে গেলাম। শ্রাবন্তী বিচিত্র বিচিত্র বিষয় নিয়ে আসেন। একদিন কুষ্টিয়ার একটা ছেলেকে নিয়ে আসলেন,বয়স ৩০ হবে ওর কথায়। ছেলেটা বলল সে যখন ছাত্র ছিল তখন থেকেই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু বাড়ি পাকিস্তান আর্মিরা পুড়িয়ে দিয়েছিল এবং বাড়ির মানুষদেরকেগুলি করে গর্তের ভেতর ফেলে দিয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে দুর্গম অঞ্চলের গণ কবরের দুঃখ কষ্ট মাখা ত্যাগের ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় না।

খুঁজে খুঁজে সে এ গণ কবর গুলো বের করেছিল এবং বেশ কয়েকটা হিন্ট বা ক্লু র ভিত্তিতে। পেয়েছিল এসব নিয়ে কয়েকটা গল্প বলল ছেলেটা।
কোন স্বার্থ ছাড়া জীবনের কতগুলি বছর সে যুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য এ কাজগুলি করেছিল।
অসাধারণ এবং চমৎকার করে সে বিষয়গুলি তুলে ধরছিলো ছিল আর আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম।
শ্রাবন্তী জিজ্ঞেস করল
-এসব করে আপনার লাভ কি?
-আমার কোন লাভ ই নেই। দেশের মানুষ জানুক। আর দেশকে ভালোবেসে আমি কিছু করতে পেরেছি এটাই আমার আত্মার শান্তি,যুদ্ধ হয়তো করিনি কিন্তু এই যুদ্ধে অংশগ্রহণটা এভাবেই থেকেছে। মুক্তিযোদ্ধারা সার্টিফিকেটের জন্য যুদ্ধ কেউই করেনি
যারা সার্টিফিকেট পেয়েছিল সেটা হতো তাদের চাওয়া ছিল না বোনাস ছিল
আর আমার চাওয়া বোনাস কোনটাই প্রয়োজন নেই।
ছেলেটা খুব সুন্দর করে কথা বলল। তার উদ্দেশ্য কি? সে কেন করে?
-আপনি প্রথম আজকে কোন রেডিওতে এসেছেন আপনার কেমন লাগছে? অনুভূতিটা বলবেন।
-আমি আজকে যে প্রথম রেডিওতে এসেছি তা না, এর আগেও বিবিসি লাইভে আমাকে নিয়েছিল আবার অনেক টিভি চ্যানেলেও বেশ কয়েকবার ইন্টারভিউ দিয়েছি এর গণকবর গুলো কিভাবে খুজে বের করলাম সে বিষয়ে বলেছি।

তখন শ্রাবন্তী লজ্জা পেয়ে গেল।

-আপনিতো বিখ্যাত মানুষ। আমি তো বুঝতেই পারিনি।
-না। আপনার রেডিও যখন আমাকে অনুষ্ঠানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে তখন অবশ্যই আমার সম্পর্কে সবকিছু জেনেই আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আপনি এগুলো ঠিকই জানেন, যে আমি এগুলো করেছি কিন্তু হয়তো আপনি দুষ্টুমি করেছেন।

শ্রাবন্তী আবার বিব্রত বোধ করল। বলল,”সত্যিই আমি জানিনা।”
এত সুন্দর করে বলল “সত্যিই আমি জানি না”। এ কথাটা আমার মগজে পুরো আটকে গেল। আমার মনে হল আমি শ্রাবন্তীকে সামনা সামনি দেখতে পাচ্ছি এবং তার গাল লজ্জায় লাল হয়ে গেছে সেটা অনুভব করতে পারছি। স্পষ্ট শ্রাবন্তীর চেহারাটা আমার চোখের সামনে ভেসে উঠলো।

আমি এখনো গাড়ি নিয়ে ঘুরছি কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গিয়েছে আরো বেশ কিছুক্ষণ আগে। আমি ফোন করলাম আমার এক বন্ধুকে। জিজ্ঞেস করলাম
-এই চ্যানেলটার অফিস কোথায়?
-কোন চ্যানেলটা?
-ওই চ্যানেলটা।
-কোন চ্যানেলটা?
-আমি যেদিন তোমাকে জিজ্ঞেস করলাম না যে বাসায় মোবাইলে রেডিও শোনা যায় কিনা।
-আমার কি ওটা মনে আছে নাকি কোন চ্যানেল বলছ।
-এফএম 29.9।
-আমি তো সেটা জানি না তবে আমার এক জুনিয়ার আছে। সে একটা রেডিও জকি তাকে জিজ্ঞেস করে জানাতে পারি।
-তাহলে তোমার হাতে পাঁচ মিনিট সময় আছে। তুমি জেনে আমাকে জানাও। আমার একটা কাজ আছে।

বন্ধুটা একটা হাসি দিল।
মনে মনে ভাবতে লাগলাম বন্ধুটা কি বুঝে ফেলেছে নাকি কিছু? আমি কি ভুলে কিছু বলে ফেলেছি? বিব্রত বোধ করা শুরু করলাম। কিন্তু বললাম থাক এখন আর ফোন করবো না এক ঘন্টা পরে ফোন করবো।
এখন ফোন করলে সন্দেহ করে ফেলবে। ঠিকই ৫ মিনিট পরে ফোন করে ফেললাম। বুঝলাম, অস্থির আমি!
শ্রাবন্তীর লাজ রাঙ্গা লাল টুকটুকো গাল অস্থির করে তুলেছে আমাকে।
বন্ধু বলল ওই রেডিওর অফিস বনানীতে। ব্লক নাম্বার ২ বাড়ি নম্বর ৩৩।

আমার মাথায় বাজ ভেঙ্গে পড়ল।

আমি তৎক্ষণাৎ মাথায় হাত দিয়ে দিলাম। এটাকেই বলে কোইন্সিডেন্ট। যেদিন প্রথমবার 29.9 এফএম শুনেছিলাম সেদিনই তো ২ নম্বর ব্লকের ৩৪ নম্বর বিল্ডিং এর একটা কর্পোরেট কোম্পানিতে আমি কাজে গিয়েছিলাম।
একেই তো বলে কো ইন্সিডেন্ট। নিশ্চয়ই এখানে কোন খেলা আছে। ঠিক করলাম আগামীকালই চলে যাব দশটার দিকে। ঠিক আটটা বাজে ঘুম ভেঙে গেল। দেরি যাতে না হয়। নয়টার মধ্যে গাড়ি স্টার্ট দিলাম। ড্রাইভার এর ছুটি শেষ। ড্রাইভার এসেছে। ওকে নিলাম না। আমি গাড়ি চালিয়ে গেলাম। অফিসটা খুজে বের করতে সময় লাগলো না। আমি ওদের অফিসে গেলাম। দেখলাম খুব পরিপাটি একটা অফিস। এত বড় অফিস না। রেডিও চ্যানেল যে এত ছোট স্পেস এর ভেতর করে সেটা আমার জানা ছিল না। কেও একজন জিজ্ঞেস করল
-কার কাছে এসেছেন?
-শ্রাবন্তীর কাছে।
-ম্যাডামের সাথে কি অ্যাপোয়েন্টমেন্ট করা ছিল?
আমি যদি বলি না তাহলে তো বিপদ হয়ে যাবে।
লআমি বললাম, হ্যাঁ। বলুন শাহেনশাহ এসেছেন।
তখনো অনুষ্ঠানের ২০ মিনিট বাকি।

আমি কোথা থেকে যেন শুনতে পেলাম কেও একজন দূর থেকে বলছে, ওহ্- শাহেনশা এসেছে। ওকে বসতে বল এক কাপ কফি দাও। BLACK COFFEE

আমি তো পুরাই থ রিসেপশনে বসিয়া আমাকে খুব খাতির করলো ওরা। হঠাৎ দেখলাম অল্প বয়স্ক একটা মেয়ে যেমন দুই হাত তুলে হাগ করার জন্য ছুটে আসে, ঠিক সেভাবে শ্রাবন্তী ছুটে আসছে। এসেই থমকে দাঁড়ালো আমার সামনে।
রিসেপশনিস্ট কে বলল
-শাহেনশা কোথায়?
-উনিই তো শাহেনশা
শ্রাবন্তী আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
আমি বললাম
-কোথাও ভুল হয়েছে কি?
-না তেমন না।তবে হয়েছে।
-কি হয়েছে?
-আমার এক বন্ধু নাম শাহেনশা ও এসেছে লন্ডন থেকে। ও আমাকে বলেছিল আজকে ঠিক 11 টা বাজে আসবে। তো আমি ভেবেছি শাহেনশা এসেছে। তাই আমি ছুটে এসেছি। আরেকটু হলে তো পিছলে পড়তে আমার উপর। কত বছর পরে দেখা।
মুখ দিয়ে শাট করে বের হয়ে গেল,
-তুমি আমাকে চিনতেই পারোনি?
-১৫ বছরে এত চেঞ্জ?
-খুব বেশি কি চেঞ্জ হয়েছে আমার?
-অনেক টাই। বাদ দাও। তুমি ফেসবুক ইউজ করো না কেন?
-লন্ডনে সবাই ফেসবুক ইউজ করে না সারাক্ষণ কাজ করতে হয়। কাজ টা একটা নেশা।
+বুঝলাম লন্ডনের শাহেনশা ফেসবুক ব্যবহার করে না
তাই এই যাত্রায় বেঁচে গেছি)

যেমন তুমি একটা নেশা তেমন ঐটাও একটা নেশা। দুটো নেশা একসাথে রাখতে নেই। ভালো হোক খারাপ হোক একটি নেশাই যথেষ্ট। যেমন ছেলে হোক মেয়ে হোক একটি সন্তানই যথেষ্ট।
অন্য কথায় দেখো বা না হোক আমি তোমার তুমি আমার।

-তুমি তো আজকাল অনেক দুষ্টামি করে কথা বলো আগে তো এমন ছিলেনা।
-লন্ডন আমাকে এমন করে দিয়েছে।
-লন্ডন তো একটা ব্যস্ত শহর ওখানে এমন হলে কি করে?
-লন্ডন আমাকে রোবট বানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশে এসে ওই খোলসটা অন্তত ছাড়াবার চেষ্টা করছি।
-ওহ তাই বলো!

ততক্ষণে কফি চলে আসলো। আমাকে কফি খেতে বলল আমি কফি খাওয়া শুরু করলাম।
-তুমি ঢাকায় এসেছ কয়দিন?
আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। আগে কি বলেছি আর এখন কি বলবো। আমি তো সেই শাহেনশা ই নই।

-৫-৬ দিন হয়েছে তবে আমি তোমার রেডিও 29.9 সবসময় শুনি।
-মিথ্যা কথা বলছো।
-না সত্যি কথাই বলছি।
-গড় গড় করে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানটা বললাম তারপর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানটা বললাম। তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠানটা বললাম। চতুর্থ দিনের অনুষ্ঠানটা বললাম। পুরোটা বললাম। ছেলেটা কি বলেছে আর মেয়েটা কি বলেছে। ছেলেটা কি বলেছে মেয়েটা কি বলেছে ছেলেটা কি বলেছে। মেয়েটা কি বলেছে ছেলেটা কি বলেছে। আর ওই ছেলেটার কথায় লজ্জায় যে ওর গালটা লাল হয়ে গিয়েছে সেটাও বললাম।
-তুমি গাড়িতে বসে বসে আমার অনুষ্ঠান শুনতে?
-পুরাই!
এর মধ্যে কেউ একজন ভেতর থেকে এসে ডিস্টার্ব করে দিল।
বলল, ম্যাডাম আপনার শো এর সময় হয়ে গিয়েছে।
নূতুন আপা রেডুি।

শ্রাবন্তী আমার দিকে ফিরে বললো,
-শাহেনশা তুমি বিকালে আসো।
-বিকালে আসবো কিনা জানিনা। আবার কখনো দেখা হবে কিনা তাও জানিনা। তবে একটা কথা বলি তুমি আগের চেয়ে এত বেশি সুন্দর হয়ে গিয়েছো যেটা আমি কখনোই ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আমৃত্যু তোমার আজকের দিনের চেহারাটা আমার মনে থাকবে।

এটা বলে আমি চলে গেলাম ও আমাকে গেট পর্যন্ত পৌঁছে দিল ।
ও বলল
-১ মিনিট।

যদিও আমার তুমি বলতে কষ্ট হচ্ছিল আমার। আমি কাউকে তুমি বলি না কিন্তু পরিস্থিতির চাপে বলেছি এখন।
আমার জন্য একটা গোলাপ এনে দিল। গোলাপ টা নিয়ে ওর দিকে তাকালাম আমি। ওকে কিছুই বললাম না। কিছু না বলার মধ্যে মনে মনে এটুকু বললাম, আমারও কিছু আনা উচিত ছিল।
বলেছিলাম মনে মনেই কিন্তু শ্রাবন্তী হয়তো শুনে ফেলল। বলল, হয়তো ভুলে গেছো। বিকেলে নিয়ে এসো।
আমি বললাম, ঠিক আছে।
আমি লিফট এর দিকে এগোতে শুরু করলাম। আর ভাবতে শুরু করলাম। বাপের জীবনে এরকম অভিনয় করি নাই।
আমি বোকা বানালাম নাকি ও আমাকে বোকা বানালো সেটা বুঝতে পারছি না। তবে মনে হয় আমিই বানালাম।
১৫ বছরে অনেকের চেহারা চেঞ্জ হয়। হয়তো আমার আর তার কাছাকাছি চেহারা। হতেও পারে।তবে ওই শাহেনশা দেখতে কেমন তা জানিনা। কিন্তু আমার ভীষন খারাপও লাগছে কারণ এই কাজটা না করলেই ভালো হতো। কারণ পরে যখন লন্ডন ফেরত শাহেনশা আসবে, তখন ওই মেয়েটা বুঝে ফেলবে আমি ফটকা ছিলাম। এরপর থেকে এক বছর প্রত্যেকদিন শুনি রেডিও 29.9 এফএম এমন কি আজতক। কিন্তু কখনো ওর কাছে যাওয়ার সাহস পাইনি কিংবা বলার সাহস পায়নি , “আবেগে আমি তোমার সেই শাহেনশাহ হয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু আমি তোমার সেই
শাহেনশা নই।”

ভীষণ ভালো লেগেছিল শ্রাবন্তীকে যেটা ভাষায় বা লিখায় আমি কখনোই প্রকাশ করতে পারবোনা

সবদিক থেকে ম্যাচ করছিল পাঁচ বা সাত বছরেরর ছোট ও আমার চেয়ে
আমার অনুভূতি শক্তি বলে

জানিনা আবার কখন কোথায় কোনদিন দেখা হয় কিনা দেখা হলে সত্যি কথাটা বলে দেবো
আর আমার মেন্টেন ক্যাপাসিটি তে আমি ওকে ম্যানেজটি করে নেব।

হয়তোবা দেখা হবে সময়ের অনেক পরে
তখন আর বলার কিছুই থাকবে না শুধু এতটুকু বলব
S O R R Y
এখনো এফএম 29.9 শুনি
ওর কথাই ভাবি
মাঝে মাঝে এখনো সুযোগ পেলে বনানীর আশপাশে চক্কর কাটি
যদি কখনো দেখা হয়ে যায় সেই আশায়।
মস্তিষ্ক বার বার সিগনাল দেয় যদি অতটা অপেক্ষা করতে না পারি তবে যেন দেখা করে ফেলি।
শুধু সরি কথাটা বলার জন্য বাকিটা হবে ইতিহাস।

To be continued…………………

SARBANI CHATTERJEE KOLKATA
BRAND AMBASSADOR
Shihab Rifat Alam’s Short story

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releted Post