আমি জন্মগতভাবে মোটামুটি সচ্ছল পরিবারের সন্তান। আমার বাবা ব্যাংকের বড় অফিসার ছিলেন।
সমস্যা হলো আমি কখনো ওনাকে বাজার করতে দেখিনি। বাজার করতেন যিনি, তিনিও আমার মায়ের মত একজন সবে রওশান।সবে ওনার নাম। আমার গল্প সবে থাকবেন কারণ যিনি জন্ম দিয়েছেন তিনি যেমন মা আর যিনি আমাদেরকে লালন পালন করতে গিয়ে বাকি জীবনটা বিয়ে না করে কাটিয়ে দিয়েছেন তিনিও আমার মা। উনাকে আমি কখনো ভুলতে পারিনা আর কখনো ওনাকে আলাদা করতে পারি না। উনার প্রতি আমার ভালোবাসা, শ্রদ্ধা কোন কিছুই কমতি নেই আজ পর্যন্ত। বিশ বছর ধরে ওনার কবর টা যাতে ভেঙ্গে না ফেলা হয় তার জন্য প্রতিমাসে আমি একটা পেমেন্ট করি।
সবে রওশান বাজার করতেন।
উনি আমাদের বাড়ির এ দায়িত্ব পালন করতেন। একটু ডানপিটে নারী ছিলেন।
উনি যেই জিনিসটা নিয়ে বাজারে যেতেন মানে বাজারের ব্যাগ। সেটাকে তখন বাজারের ব্যাগ বা কখনো খালোই নিয়ে যেতেন। খালোই টা কিছুটা গোল আকৃতির, আজ কালকার পোলাপান সেটা বুঝবে না। তখন মধ্যবিত্ত সংসারে কি বাজার লাগতো আমি সেটা জানতাম না, এখনো সেটা জানি না। ইলিশ মাছ ই চিনেছি বুড়ো বয়সে এসে,এই ৩/৫ বছর আগে।
যখন আমার বয়স ৫৫ তখন আমি জেনেছি এই মাছটার নাম ইলিশ, এই মাছটার নাম রুই। এখনো জানিনা কোনটা বোয়াল কোনটা পাঙ্গাস কোনটা চিতল বা কাতাল। এগুলো নিয়ে আমি কখনোই মাথা ঘামাই না। আমার মাথা ঘামানোর বিষয় ছিল অন্য। ভবিষ্যৎ ঠিক রাখা এবং বর্তমান ঠিক রাখা। যেমন ব্যবসার বাহিরে আমি কখনো কারো সাথে কথা বলতাম না। ব্যবসার বাইরের কোন মানুষকে আসলে আমি খুব একটা গুরুত্ব দিতাম না। যেমন আমাদের বাসায় একবার মন্ত্রী আসলো।
বাড়িতে এলাকার লোকজন এসে ভরে গেল,
সবাই মিলে বলল কিন্তু আমি কোন ছবি তুললাম না তার সাথে। কারণ আমি জানি এই মন্ত্রী কে দিয়ে আমার কোন লাভ হবে না অন্যদিকে আমি রাজনীতিতে মজা পাই না বা আমি রাজনৈতিক ব্যক্তি সম্পর্কে নেগেটিভ ধারণা রাখি।
তিনি খুব নামকরা মন্ত্রী ছিলেন এখনো নামকরা
সাবেক তারপরে তাকে নিয়ে ভাইরাল হয় আর কথাগুলি উচ্চারণ হয় বারবার।
যদি আমার এই ধারণটার পরে ভেঙেছে যেসব মন্ত্রী রাজনীতিবিদ এক না অনেক ভালো এমপি-মন্ত্রী রাজনীতিবিদ আছেন।
উনি এসেছে যে কোন কারনেই হোক, তার কাজটা সে করেছে আর সেটা আমি দেখেছি। আসলে আমার বাবা মারা গিয়েছিলেন সেদিন।
মন্ত্রী বাসায় আসার পরে সবাই ডাকাডাকি শুরু করলো এলাকার লোকজন বারবার আমাকে বলছে মন্ত্রী এসেছে, আপনি কি সৌজন্য সাক্ষাৎটুকুও করবেন না? আপনার বাবা মারা গেছেনশেষ সৌজন্যের কারণে এসছেন।
আপনাদের বাসায় তো এসেছেন কিন্তু আমি এ সবের কোন গুরুত্ব দেই নাই কারণ কখনোই আমি মনে করিনি যে কোন মন্ত্রী এমপির সাথে ছবি তুলে আমি সেলিব্রেটি হব।
বা এটা কোন গর্বের বিষয় ।
সেজন্য আমার অনুষ্ঠানের স্টেজগুলোতেও চার পাঁচ জন মন্ত্রী থাকলেও আমি তাদের সাথে কখনো ছবি তুলিনি। সেজন্যই ২০-৩০ জন নায়ক-নায়িকা আমার অনুষ্ঠানে একই স্টেজে এসেছেন কিন্তু আমার তাদের সাথে কোন ছবি নেই। ফজলুর রহমান বাবুর সাথে আমার একটা বন্ধুত্ব আছে বিধায়, ফজলুর রহমান বাবু এসে বললেন,”অনুষ্ঠানের না আসলে আপনি মাইন্ড করবেন তাই ডাইরিয়া নিয়ে এসে পড়লাম।”
আমি বাবু ভাই কে বললাম দুই লাইন গান শুনিয়ে যেতে। চঞ্চল কে ও তাই বললাম।
আমার ক্যারেক্টার টা একটু অন্যরকম। বাজার করতে দেখিনি তাই আমিও বাজার করিনি। বাজার করার মত একটা অপদার্থের কাজ আমি কয়েক ঘণ্টা সময় লাগিয়ে করব!ওই সময়টাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারবো।
আবার আমার ধারনাটাও একটু আলাদা। কেউই আমরা জীবিত মাছ খাই না। আমরা আসলে মরা মাছ ই খাই। তাই মাছ টা আসলে আধা ঘন্টা আগে মারা গেছে নাকি১০ ঘন্টা আগে সেটাও আমার কাছে খুব একটা গুরুত্ব বহন করে না। কারণ মাছ ওয়ালাতো বললেই বলবে , একটু আগেই মাছটা মারা গেছে। কসাইকে জিজ্ঞেস করলেই মাংসের গায়ে রক্ত লাগিয়ে বলবে এইতো একটু আগেই গরুটাকে জবাই করা হয়েছে।
তাই এই যখন অবস্থা তখন তাদেরকে এসব প্রশ্ন করে বোকা বোনে যাবার লোক আমি নই। আমি বিশ্বাস করি একটা গরু যদি ১০ ঘন্টা আগেও কেটে থাকে কিংবা মাছ যদি দুদিন আগেও মারা গিয়ে থাকে এবং ফ্রীজিং ঠিক থাকে আর যিনি রাধুনী, তিনি তিনি যদি মসলা পাতি দিয়ে অনেক ভালো করে রান্না করেন তাহলে ওটাই আমার কাছে সুস্বাদু বাকিটা কোন আদুতেই পড়ে না। বাকি সব ভাদুই রয়ে যায় আমার কাছে। এক কথায় রাধুনী আমার কাছে জাদু।
যেহেতু আমি একেবারেই বাজার করিনি, তাই এটা কোন ক্রেডিটের বিষয় না আবার ডিসক্রেডিট ও না। আমার প্রয়োজন পড়েনি,আমি করিনি আমার এটা অভ্যাসে নাই। আপনি যদি বাংলাদেশের বেশিরভাগ দামি মানুষকে জিজ্ঞেস করেন যে তারা জীবনে কখনো বাজার করেছে কিনা, তারা বলবে না করিনি তবে মাঝে। কারণ ওনারা সময়ের মূল্য দিয়েছেন ।আবার তাদের ওটা করার জন্য আলাদা একটা মানুষ আছে। একটা ছোট ছেলে র সব সময় মনে হয় যদি একটা গাড়ি পেতাম তাহলে সারাদিন চালাতাম আর সেই ছেলেটাই যখন বড় হয়ে একটা গাড়ির মালিক হয় তখন সে ড্রাইভার রাখে তখন আর সে গাড়ি চালাতে চায় না। আমি এটা ২০ বছর বয়সেই বুঝেছিলাম। আমি আমার ২০ বছর বয়সেই গাড়ি কিনেছিলাম। সেই সাথে একজন ড্রাইভার রেখেছিলাম। যদি আমি এখন মোটরসাইকেল চালাই তাহলে একটা মোটরসাইকেল ড্রাইভারও নিব,কোন সমস্যা নেই। কাজেই আমার ক্যারেক্টার টাই এমন। আমার অনেক কিছু চিন্তা করতে হয়। ভাবতে হয়।আমি ছোটবেলা থেকে অনেক বিষয় নিয়ে গবেষণা করতাম আমার হাতের লেখা খারাপ দেখে
বহু লেখা, বহু ইতিহাস বহু ভৌগলিক মানচিত্র মস্তিষ্ক ঠিকই ধারণ করে রেখেছি।
সেটা সাইন্স হলেও সমস্যা নাই নক্ষত্র হলেও সমস্যা নাই নদী জল কোন কিছুতেই সমস্যা নেই
একেকটা বিষয়ের লিখা ১০০ পৃষ্ঠার হবে আর এ রকম দশটা বিশটা পান্ডুলিপি এখনো আছে।
মানুষের যেসব বিষয়ে গবেষণা করে আমি সে বিষয়গুলি নিয়ে গবেষণা করি না।
আমার অনেক বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে হয় যেমন আমি মসলিম শাড়ি নিয়ে গবেষণা করেছি। যেগুলোর একটা পান্ডুলিপি আমার কাছে আছে। হয়তো আমি কোনদিন প্রকাশ করবো, এটা বহু জনে গবেষণা করেছেন
তাদের মতো করে, যেটা সাথে একটা নগ্নতা ইতিহাস আছে সেটা কেউ তুলে ধরে না যেটা আমি তুলে ধরব ভাবছি কোন এক লজ্জায় তুলে ধরতে পারছি না।
কাজেই যে সময়টা আমি বাজার করব সেই সময় আমি অনেক বড় গল্প লিখতে পারি। অথবা যে গল্পটা মানুষের কাজে আসবে তেমন গল্পও লিখতে পারি। কোন গল্প যে কাজে আসবে আর কোন গল্প কাজে আসবে না সেটা কিন্তু আমি জানিনা। তবে কাজে যে আসতে পারে সেটা আমি খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতে পারি।
১০০২ ডলারের একটা গল্প ফেসবুকে ব্যাপকভাবে প্রচলিত
এ গল্পটা দিয়ে আমার জীবনের অর্থনীতির মোড় ব্যাপকভাবে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় অবিরত আছি ৬ মাস থেকে। ওই গল্প থেকে হিসাব নিয়ে আমি নাম করতে পারে এমন একটা প্রোডাক্ট করতে চাই।
বাংলাদেশে বড়লোকের কোন অভাব নাই বড় ব্যবসায়ীর কোন অভাব নাই বাংলাদেশের কোন ব্র্যান্ড ওয়ার্ল্ড ওয়াইড হয় নাই।
আমরা বিক্রি করে লাভের হিসাবটা করি এবং সস্তায় মালটা বিক্রি করি এবং কোয়ালিটি ও সস্তায় থাকে।
জাহাজ”একজন হাতুড়ি মিস্ত্রী এক হাজার দুই ডলারের বিল হাতুড়ির ঠুকাঠুকি বিল দুই ডলার আর মস্তিষ্কের বিলে এক হাজার ডলার “
এটা আমার মাথায় ঢুকেছে
এর অর্থটা এমন পরিশ্রমে যতটুক ক্যালোরি ক্ষয় হয় মস্তিষ্কের ব্যবহারে তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ ক্যালরি ক্ষয় হয়।
আপনি যদি ২০০ টাকা ব্যবহার করেন আর মস্তিষ্ক একশ কোটি টাকাী ব্যাবহার করেন
তবে আপনার পুঁজি ১০০ কোটি ২০০ টাকা।
এ ধরনের হিসাব চালানো যায়
আজকের যারা বড় বড় ব্যবসায়ী তাদের বেলায় এটাই ঘটেছে ইউরোপা আমেরিকায়।
বাজার
কখনো করিনি তার মানে এই না যে আমি কখনো করবো না। কখনো করিনি এটা আমার অভ্যাসে পড়েনি। শেষ যেবার গিয়েছিলাম ততদিনে বাংলাদেশ অনেক উন্নত হয়ে গিয়েছে। এখন বাজার বলতে একটা হাইফাই জিনিস বোঝানো হয়। স্বপ্ন, আগোরা, সহ অনেক কিছু হয়ে গিয়েছে।
ছোট ছোট চাকা ওয়ালা রিক্সা নিয়ে এ একটার পর একটা প্রডাক্ট তুলতে থাকবে আর ছুড়তে থাকবে এবং নিজেকে খুব দামী মানুষ প্রমাণ করবে। তারপর কার্ট ভরে যাবে।
একদিন আমি আগোরাই একটু দেখতে গেলাম। সামনে পড়লো আমার বন্ধুর বউ। তিনি একটি কলেজের প্রভাষক। ওনাকে দেখে একটা হইচই শুরু হলো সেখানে। কি হয়েছে সেটা দেখতে গেলাম। আমি ভাবলাম তাকে বাঁচাবো। কিন্তু পরবর্তীতে যা শুনলাম,”এই ম্যাম এখানে আসে এবং লিপস্টিক সহ এটা সেটা ব্যাগের ভেতরে ভরে নিয়ে যায়। এই ম্যামকে এখান থেকে ব্যান করা হয়েছে। উনি নিষিদ্ধ আগড়ায় তার পর ও আজ এখানে এসেছেন।”
পরে জানতে পারলাম আজকেও নাকি ওনার ব্যাগ থেকে পাঁচ সাতটা লিপস্টিক পাওয়া গেছে।
আমি কনক কে জিজ্ঞেস করলাম, কনক! অপুর বউ কি এই রকম করে নাকি? তাহলে বাচ্চাদের পড়ালেখা করায় কিভাবে?” আমি তো পুরাই টাস্কি খেয়ে গেলাম।
আসলে এটা প্রকার নেশা বা মানসিক রেগ ইংরেজিতে এটাকে বলে Pathological theft or “Kleptomania
বাবারে বাবা আমার আর বাজারে যাওয়ার দরকার নেই। এমনিতেই বাজারে গেলে চোর পকেট মেরে দেয়। ৫০০০ টাকার মাছ সর্বশেষ ৫00 টাকায় বিক্রি হয়। আমার আর এত অভিজ্ঞতার দরকার নেই। ব্রেনও নষ্ট করার দরকার নেই।
আমি খুব ছোট একজন ব্যবসায়ী। খুব বড় ব্যবসায়ী বলা যাবে না কারণ আমার এলসি হয় এক লাখ থেকে ৫ লাখ ডলারের। মানুষের এলসি হয় ৫০ লাখ ৮০ লাখ ডলারের।
কোটি কোটি ডলার এর র L /C অভাব নেই সেই অর্থে আমি একজন মধ্যম বা নিম্নগ্রেডের ব্যবসায়ী।
ব্যাংকে খুব একটা লোন নেই যা আছে তা একদম খুবই কম, বাবা বলে গিয়েছিলেন ঋণ মানুষের ধ্বংসরএকটা কাটন।
মেনে চলেছি এই আর কি।
এমনও সময় ও এসেছে ২০ লাখ টাকার চেক ব্যাংকে গিয়ে পৌঁছাতে, হয় তো আধা ঘন্টা দেরি হবে। কিন্তু তাও ব্যাংকের ম্যানেজার আধাঘন্টা আগেই ২০ লক্ষ টাকা ব্যাংক থেকে দিয়ে দেয় পরে আধা ঘন্টা পর চেক গিয়ে আমার সেখানে পৌঁছায়। এই পজিশনটা আমার আমি গড়ে নিয়েছি।
সব সময় সব জায়গায় কমিটমেন্ট আমাকে রাখতে হয়েছে। তাই দৈনিক বাজার করা বা বাচ্চা কাচ্চাকে স্কুল দিয়ে আসা নিয়ে আসা এ এক ধরনের অকাজ আমি কখনো করিনি। কারণ এই এক-দেড় ঘণ্টা আমি এসব কাজ করে নষ্ট করতে চাইনি। আমি একটা বই লিখেছি যারা প্রতিদিন বাজার করে কিংবা বাচ্চাদের স্কুলের ব্যাগ নিজেদের ঘাড়ে নিয়ে বাচ্চাদেরকে স্কুলে দিয়ে আসে আবার দুপুর বেলা বাচ্চাদেরকে স্কুল থেকে নিয়ে আসে।দশ বছরে এদের লাইফ স্টাইলটা কেমন হয়েছে এবং তাদের রোগ শোক কি পরিমাণ তার উপরে আমি একটা বই রেডি করেছি।
এরই মধ্যে গৃহে একজন নতুন মেহমান এসেছে। মেহমানকে খুশি করার জন্য আমি একদিন বাজারে গেলাম। বাজারে গিয়ে আমি দেখলাম দেড় দুই হাজার টাকার ভেতরে বিশাল বিশাল মাছ পাওয়া যায়। আমি পেয়ে গেলাম ৫০০০ টাকায় পাঁচটা মাছ। আমি নিয়ে নিলাম। মাছওয়ালা বোঠি নিয়ে বসে আছে। আমাকে বলল কেটে দেই স্যার? আমি বললাম না লাগবে না। মাছের বেলায় আমি বেশি একটা দামাদামি করলাম না কারণ, আমরা তো লাভের উপরেই খাই। করুক না সে কিছু টাকা লাভ। এর আগে আমার একটা ব্যবসা ছিল যেখানে অনেক মাছওয়ালা আমার ক্লাইন্ট ছিল। যেহেতু সে আমার ক্লাইন্ট ছিল, কাজেই তার থেকেও নিশ্চয়ই আমি অনেক লাভ করেছি। তার তো লাভ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। বিধায় আমি মাছ নিয়ে বার্গেনিং করিনি। আমি পাঁচটা মাছ ৫০০০ টাকায় কিনে নিয়েছি সেই আমলে। ১০ বছর আগে।
সমস্যাটা সেখানে ছিল না কিন্তু সমস্যাটা ছিল, আমি ঠাটারি বাজার থেকে মাছ নিয়ে আসতেছি।
তখন আমার ভেতরে একটু তেজি তেজি ভাব আসলো। সেই ভাব দেখে আমি নিজেই হেসে খুন। কেন আসলো তা জানি না।
আসলে মাছ ওয়ালার ভিতরে একটা তেজি তেজি ভাব। আসলে মাছওয়ালা তার ঝাকার ভিতরে পাঁচটা মাছ আছে, সেই সাথে আমি আরো কিছু বাজার করেছিলাম যেমন বাঁধাকপি ফুলকপি টমেটো ইত্যাদি। সব মিলিয়ে এসবের ভারে তার কোমরের যে নড়াচাড়া হচ্ছিল, সুন্দরী নারীর চেয়ে কিছু অংশেই কম ছিল না। তাই সুন্দরীর কোমর দোলানো দেখে আমার স্মার্টনেস কিছুটা বেড়ে গেল। এখন স্মার্টনেস এ যে সমস্যাটা হলো সেটা হল, সামনে একটা নদী এসে পড়ল। নদী না হলেও সেটাকে খাল বলা যেতে পারে। খাল না বললেও এটাকে নালা বলা যেতে পারে। সেটা অতিক্রম করার জন্য একটা পা একটু বেশি করে এগিয়ে দিলেই হত। কিন্তু আমি একটু স্মার্টনেস দেখালাম। সামনে যে সুন্দরী রমনী পাছা দুলিয়ে দুলিয়ে মাথায় মাছের ঝাকা নিয়ে হাটতে হাঁটতে যাচ্ছে তাকে দেখতে দেখতে আমি নালাটার উপর একটা লাভ দিয়ে দিলাম। যেইনা দিলাম লাফ, সেই তখনই পিছলে পড়লো পা। আর সবাই চারিদিক থেকে হাহাহাহা করেএকজন অসহায় মানুষকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতে লাগলো। এলাকাটাএই এমন ছিল যে সবাই আমাকে চিনত।
তবে আমি একটু বেহায়া টাইপের মানুষ তো তাই বিশ্বাস একটা লজ্জা পেলাম না। উঠে দাড়িয়ে বললাম
-কি হয়েছে?
-ব্যথা পেয়েছেন নাকি?
-কেন?
-পড়ে গেলেন যে।
-কে পড়লো?
-আপনি।
-আমি তো লাফ দিয়ে একটা আছাড় খেয়ে দেখলাম। আমার এক চাচাতো ভাই নাকি অল্প একটা আছাড় খেয়ে তিন মাস হাসপাতালে থাকল। তাই আমি আছার খেয়ে দেখলাম এইটুকু আছারে ঠিক কি কি হয়। কিন্তু কিছুই তো হলো না। বুঝলাম আমার চাচাতো ভাইয়ের বয়স হয়তো আমার চেয়ে কম কিন্তু তার মনের বয়স আমার থেকে অনেক বেশি।
তারপর মাছওয়ালার পাছা দুলানো দেখতে দেখতে বাসায় চলে আসলাম। রিক্সা নিতে চাইলাম আছাড় খাওয়ার পর। কিন্তু মাছওয়ালার সাথে আমি একই রিকশায় বসবো না। তাহলে আমি আসবো কিভাবে?
আমি যদি রিক্সা নেই তাহলে মাছওয়ালার তো একাই বসতে হবে এক রিক্সায়। তাই আমি হাঁটতে হাঁটতে মাছওয়ালার কোমর দোলানো দেখতে দেখতে বাসায় আসলাম।
বাসায় এসেই আমার বোনকে পেলাম। মাছ দেখে এসে খুশি হবে কি রাগে গদ গদ করতে লাগলো। আমার বোন যেন তখন কেন ছিল মনে নেই। তখন যেকোনো কারণে আমরা একসাথে ছিলাম।
রাগে গদ গদ করতে করতে বলল,
-এত বড় বড় মাছ এনেছো, এগুলো কাটবে কে? বোকা নাকি রুপম ভাইয়া?
-কাটবে কে মানে? আমরা!
-এত বড় বড় মাছ কি বাসায় কাটা যায়?
আমি বললাম, লে বাবা। ঠেলা সামলা। আমি ভাবলাম কই সবাই খুব খুশি হবে। কেউ তো খুশিই হলো না।
ওই যে মাছওয়ালা টা আসলো তার সাথে আমি এক দেড়শ টাকার একটা কন্টাক্ট করলাম। জিজ্ঞেস করলাম তুই থাকোস কই? ও আমাকে ওর বাড়ির ঠিকানা দিল। ওর ফোন নম্বরটা নিলাম। বললাম তোর নম্বর থেকে আমাকে একটা ফোন দে। ও ওর ফোন নম্বর থেকে আমাকে একটা ফোন দিল। বললাম যাওয়ার আগে জিজ্ঞেস করে নিবি দারোয়ানের কাছে এটা কার বাড়ি। আমার ভাই এসপি ছিল তখন। তো বললাম এটা এসপি সাহেবের বাড়ি। তোর ফোন নম্বর রেখে দিলাম এই নম্বর থেকে তোকে খুঁজে বের করে ফেলা হবে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম মাছগুলো কাটতে কতক্ষন লাগবে? ও আমাকে বলল অল্পক্ষন লাগবে। তারপর ওকে আমি টাকা দিলাম। বললাম এই নে তোকে আরো ১০০ টাকা বেশি দিলাম। ও বলল 100 টাকা তো দিলেন এই যে এতদূর নিয়ে আসলাম তার জন্য। পরে ওকে আরো ১০০ টাকা দিলাম। তারপর ও মাছ কাটতে নিয়ে গেল। কিন্তু এক ঘন্টা চলে যায় ও আর আসে না। দেড় ঘন্টা চলে যায় ও আর আসে না। তারপর আমি ভাবলাম, যাহ বাবা, আমও গেল ছালাও গেল। তারপর ওকে ফোন দিলাম ও তাও ধরল না। অনেকক্ষণ পর ও ফোন ধরল জিজ্ঞেস করল, কে বলছে?
আমি ওকে একটা গালি দিলাম আর..! বললাম তুই যে মাছ নিয়ে গেলি আর তো দিয়ে গেলি না। বলল, মাছ তো কাটতে দিছি এরমধ্যে দুইটা খ্যাপ পাইছি। তাই দুই জায়গায় পৌঁছায় দিয়ে আইসি।
গরিব মানুষ দুইটা খ্যাপ পাইলেও তো ৩০০ টাকা লাভ হয়।
-তুই লাভ করস কয় টাকা?
-এক-দেড় হাজার টাকা।
-এত টাকা সংসার চালাতে লাগে নাকি তুই তো দেখি অনেক বড়লোক।
-ছেলে মেয়ে ইউনিভার্সিটি তে পড়ে।
-যাহ বাবা! তোর পাছা দুলানো দেখেই বুঝেছি তোর অনেক তেজ আছে। তোর পাছা দুলানো দেখে আমি খেয়েছি একটা আছাড়।
তারপরেও ফিরে আসলো। এরপর সবাই খুশি হল। বুঝলাম, “মাছের গল্প আছে।”
আমার জীবনে যেমন গল্প আছে ঠিক তেমনিভাবে একটি
বাঘ আমাকে খেতে পারেনি বলে এখনো বেঁচে আছি